সোমবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২০

উপকণ্ঠ প্রাত্যহিক ওয়েব ম্যাগাজিন- 29/11/2020

 উপকণ্ঠ প্রাত্যহিক ওয়েব ম্যাগাজিন- 29/11/2020

 উপকণ্ঠ প্রাত্যহিক ওয়েব ম্যাগাজিন- 29/11/2020

**********************************

"উপকণ্ঠ সাহিত্য পত্রিকা"
                 (ওয়েব ম্যাগাজিন)     

প্রকাশ কাল:- 29/11/2020, রবিবার
               সময় :- রাত 7 টা. 30 মি:


সভাপতি:- অরুণ কুমার ঘড়াই
সহঃ সভাপতি:- সেক আব্দুল মজিদ

সম্পাদক এবং
প্রকাশক:- সেক আসাদ আহমেদ

যুগ্ম সহঃ সম্পাদক :-
                  ১) ইমরান খাঁন
                  ২) শেখ মণিরুল ইসলাম


সম্পাদকীয় দপ্তর ::-
গ্রাম:- গাংপুরা ডাকঘর:- সাগরেশ্বর
থানা:- রামনগর জেলা:- পূর্ব মেদিনীপুর
সূচক-৭২১৪৪৬ পশ্চিমবঙ্গ ভারত
মুঠোফোন:- 9593043577

✒✒✒✒✒✒✒✒✒✒✒✒✒✒✒✒✒✒✒✒✒✒✒✒✒✒✒✒✒✒✒✒✒✒


এখন ঘরেই মজা
      চিত্তরঞ্জন  দেবভূতি

এখন  এই  শীতের  সময়ে ঘরেই মজা,
এখন  বৃষ্টি  আর  নেই  বটে,উত্তরের শীতকাল,
খুব  ভালো  লাগে মিষ্টি  রোদ  ভরা  সকাল৷
মাছ  ভাজা,বাসিভাত সঙ্গে পিয়াঁজ,
সমান  ভালো  লাগে,
তাই খাই  আজকাল৷
পিঠেপুলি  এই সব  খাওয়া  দাওয়া  চলে,
যখন  যেমন  সময় আসে, মানিয়ে চলি  তাই,
কারো 'পরে  রাগ  করলে  কি  আর  চলে?
ঘরে  থেকে  বেশ  মজা  পাই,
এই  ঠান্ডায়  বাইরে  না  ঘুরে,ঘরে  থাকি  তাই৷





ভেঙে যাওয়া সম্পর্ক
স্বরাজ পরামানিক

সময় বড়ই দামী ছিল তোমার।
তার থেকে বড় ছিল তোমার কাজ।
তাই গড়ে ওঠেনি সম্পর্ক, ছিল শুধু
লিখিত অনুমোদনপত্র।

মনের গহীন হয়নি মিলিত।
ঝাঁপ দিইনি অতল গভীরে,
দেখিয়ে গিয়েছি শুধু ভাসা-ভাসা,
তোমার আমার দাম্পত্য খাসা।

শুধু সময়টুকুর অভাব ছিল
নইলে কি আর ভাঙত?
বেস্ট ফ্রেন্ডরাও জুড়ি হয়,
সবাই তো তাই জানত।

শুধু সময়টা সাথ দিল না;
নাকি অন্য কেউ নিতো সেই সময়।
জানি না কতটা সত্যি মিথ্যে;
তোমার মুখোশ পরার বিষয়।

তবু তোমাকে ভালোবেসেছি,
নিন্দা করতে পারিনা তাই।
ভালো থাকার রসদ খুঁজি,
ভালোবাসার খবর নাই।

একাকী জানিনা কোথায় যাবো,
সঙ্গী-সাথীরা অস্ত যায়!
ভেঙে যাওয়া সম্পর্কের মাঝে,
একাকী আমি, নিঃসঙ্গতায়!





রবিবারের বিষয়ে
গলপ

লাশ
ভূতের গলপ
অনাদি মুখার্জি

অনেক দিন আগের কথা ,আমি থাকতাম তখন আশাপুর বলে একটা  গ্রামে ! আশাপুর থেকে চুড়ামণ আসতে সময় লাগতো 1 ঘন্টা ! আশাপুরে তো সব জিনিস পাওয়া যেতো না ,জিনিস কিনতে এই চুড়ামণ বাজারের আসতে হতো ! আশাপুর থেকে চুড়ামণ আসতে রাস্তার মাছে একটা কালভার্ট পড়তো ! যাই হোক আমি যে কথা টা বলতে চাইছি ,আমার শোনা দেখি নি কিন্তু ,  ঐ রাস্তায় সন্ধ্যায় নামলে আর লোকজন দেখা যায় না খুব একটা ! সেই রাতে একটা কাজের জন্য কালু চুড়ামণ বাজারে গেসলো , সেই খান ফিরবে কিসের আশাপুর ,সন্ধ্যায় সময় শুধু রিক্সা ছাড়া আর কিছু গাড়ি পাওয়া যায় না ,কালু শেষ পযর্ন্ত রিক্সা ভাড়া করলো ,রিক্সাওয়ালা অতদুর যেতে চাইছিল না ,তখন কালু 200 টাকা ভাড়া দেব বলে রিকশায় চেপে আশাপুর আসতে লাগলো !  হঠাৎ ঐ কালভার্টের কাজে আসতে কালু নজরে গেলো যে একটা লাশ পড়ে আছে ! ভালো করে দেখে একবার রিক্সা চালকের শুধালো এই দেখ না ঐখানে কি পড়ে আছে ,রিকশায় ঐ লোক টা বলে উঠলো হুম এই টা একটা লাশ ! কিন্তু এত রাতে তখন ১০ টা বাজে এই সময়ের এই খানে লাশ এলো কোথা থেকে ! কালূ তখন রিক্সা থামিয়ে ঐ লাশ টা কাজে গেলো ,আর রিকসাওয়ালা কে বললো চল ভাই এই লাশ টা পুড়িয়ে দেবার ব্যাবস্থা করি ! বলে কালটু ঐ লাশ টা কাজে গিয়ে দাঁড়ালো আর ঐ রিক্সায়ালা কে বললো নে ভাই লাশ টা একটু ধর ,রিকসায়ালা বললো আগে দেখো লাশ টা কার ,কোনো বাচচা না বয়স্ক লোকের ,হুম ঠিক তো বলে কালটু ঐ লাশ টা কাপড় টা সরাতে ভয়ে চিৎকার করে অজ্ঞান হয়ে গেলো ! রিক্সায়ালা  তো ভয় পেয়ে ঐ আশেপাশের গ্রামের খবর দিল ,সাথে সাথে অনেক লোক জন এলো ,সমস্ত কালভার্ট জুড়ে খোঁজ করা হলো ,কথায় লাশ আর ঐ কালটু কে ও পাওয়া গেলো না ! এইসব দেখে রিক্সাওলা ভয়ে পেতে লাগলো ,সেই পরিষ্কার দেখেছে ,কালটু যখন ঐ লাশ টা গায়ের চাদর সরিয়ে দেখছিল তখন রিক্সাওলা ও দেখেছে ঐ লাশ টা চোখ গুলো লাল আলো জ্বলছিল ! সেই রাতে কিছু পাওয়া গেলো না ,কিন্তু পরের দিন সকালে আবার কালভার্টের কাজে খোঁজ করতে গিয়ে দেখা গেল একটা লাশ ,কিন্তু সেই লাশ টা কালটু ! সবাই অবাক হয়ে গেলো এই কি কালটু লাশ ,আমি ও ছিলাম তখন দেখলাম আর কালটু লাশ টা গায়ে xyz লেখা আছে যা কেউ আচড়ে লিখে দিয়েছে ,ঐ দাগ দেখে কেউ আর লাশ টা কে  স্পর্শ করার সাহস করলো না ! আমি ও ভয়ে পিছিয়ে গেলাম  বুঝলাম যে ঐ  আত্মা কাজ সেই কাউকে ছাড়বে না !





বাঁশি পড়ে আছে
    সুস্মিতা দে

রাখাল বালক বাঁশি বাজায়।
নন্দলালা আসে সেথায় যশোমতী
মাইয়া আসে কাঁপছে বুকে ভয়
কার ননী চুরি করে উল্টো
ফেলে চলে আসে।মানে না
কারো কথা ছাড়বেনা সে বায়না

উড়ে যাবে মাইয়া কে বলে ?
আগে উড়ে যাবে গাড়ী না দিলে?
নন্দদুলাল খেলবে হোলি রঙ কিনে ?
না দিলে সে সখি দের গায়ে রঙ দিয়ে ?
দেবে যোশদা আসে পথে।

কানাই উড়ে গেছে অনেক বেলা
গেছে দুষ্টু কানাই বাঁশি ফেলে
গেছে জানে মা যশোদা ধুলোতে
তার জন্য এই দুষ্টু  কাজ টি করে
মা স্বস্তিতে বাঁচে। বাঁশি যখন
পড়ে আছে ।





বিপ্লব গোস্বামী এর  কবিতাগুচ্ছ
১৷

আমি গাই তাদের গান

   বিপ্লব গোস্বামী

আমি গাই তাদের গান
দেশপ্রেম সেনানীতে আছে যার মান।
জন্মভূমির ভালোবাসায় করে যে সম্মান
আমি গাই তাদের গান।

দেশ স্বাধীনতায় যারা করেছে সংগ্ৰাম
বুকের শোণিত যারা করে গেছে দান।
মাতৃত্বে এক হতে রচে যারা গান
আমি গাই তাদের গান।

যাদের তেজে দূর হলো পৌষাহিত কাণ্ড
যাদের তেজে বাষ্প হলো দুষ্কৃতির ভাণ্ড।
যারা রক্ষা করে সভ‍্যতার প্রাণ
আমি গাই তাদের গান।

যারা পথে পথে ঠেলে ঠেলা গাড়ি
যারা হাসিয়ে তুলে মুচীদের বাড়ী।
যাদের গৌরবে মাঠে ফলে ধান
আমি গাই তাদের গান।

২৷

রবি প্রণাম

ছন্দ গানের হে মহান ঋষি
তোমায় নমস্কার।
বন্দিতে তোমায় জানিনা মন্ত্র
ধ‍্যান প্রণাম তার।

বিশ্বের কবি তুমি সর্বশ্রেষ্ট
কালি বাল্মীকি সম।
হৃদয়ের কবি পরানের  কবি
বন্দনা লহ নমঃ।।

বীণা দিলা যারে বাণী
সবটুকু আশিষ দানি।
তাইতো তুমি বিশ্ব কবি
হে মহা জ্ঞানী।

লেখলে তুমি অমর লেখা
জ্ঞান অমৃত পিয়া।
ভাসালে তুমি অখিল জগত
মধু মাখা গীতি দিয়া।

হে মহা মুনি ,হে মহি কবি
হৃদয় শতদলে।
দিতে চাই অজ্ঞলী আমি
তোমার চরণ তলে।

বন্দনা লহ বন্দনা লহ
তোমার চরণে লুটি।
মনে বড় সাধ পদ্ম হয়ে
চরণ যোগলে ফুটি।

৩৷

তুমি কে

বিপ্লব গোস্বামী

তুমি কে ? জানি না,
দেখে ছিলাম পাহাড়ী এক গায়।
আজো তুমি ভেসে ওঠো
মনের আয়নায়।

নীল শাড়ি ছিলো গায়
পায়েল বাঁধা এক পায়।
আজো তুমি ভেসে ওঠো
মনের আয়নায়।

আরো তোমার ছিলো সাথী
সবার মুখে মিষ্টি হাসি।
সবার হাসি হলো বাসী
তোমার হাসি মন উদাসী।

তুমি কে ? জানি না,
হাত ভরা বালায় ,
গলা ভরা গয়নায়।
আজো তুমি ভেসে ওঠো
মনের আয়নায়।

৪৷

মাতৃ বন্দনা

  বিপ্লব গোস্বামী

আমি গাই জয় মায়েরি জয়
যার স্তন‍্যে বাঁচিয়া নর
মানব মহামানব হয়।

আমি গাই জয় মায়েরি জয়
সন্তানের কষ্টে রাত জাগে
শিয়রে যারা রয়।

আমি গাই জয় মায়েরি জয়
হাজার যাতনা হাজার লাঞ্ছনা
নীরবে যারা সয়।

আমি গাই জয় মায়েরি জয়
শত বেদনা সইয়া যারা
সন্তানের কথা কয়।

আমি গাই জয় মায়েরি জয়
যার আঁচলে থাকতে মোদের
নেইতো কোন ভয়।





   তুমি আছো আমি আছি
          হামিদুল ইসলাম

শতাব্দী একে একে পেরিয়ে যায়
আঁধারে ঘনিয়ে আসে মেঘ
অসহায় মানুষ এখন
অসার দৃষ্টি জীবনের চারদিক  ।।

হাওয়ারা বয়ে চলে নিঃশব্দে
ভয়ংকর রাত
মনের গভীরে ঘুনপোকা খেয়ে যায়
শরীরের রক্ত জল নুন  ।।

ভূগোলের পাঠাগারে বন্দি জীবন
ছুটে যায় নদী বন্দর
ঈশ্বর খোঁজে প্রতিদিন মানুষ
মানুষ খোঁজে ঈশ্বর  ।।

অষ্টাদশীর চোখে মৃত‍্যু মিছিল
ঝরে পড়ে একরাশ কান্না
বন্ধু,  সময় এগিয়ে এসেছে সময়
চলে যাবো দুদিন আগে আর পিছে  
।।

কার জন‍্যে বেঁচে থাকা
ফাঁকা ফাঁকা এ হৃদয় সংসার
তুমি আছো আমি আছি
তুমি নেই আমি নেই নৈঃশব্দে পৃথিবী একাকার  ।।





সম্প্রীতির দেশ
সাফরিদ সেখ

ভাবছি,থাক ,কিছু বলবো না।
মাথায় ভূত কেনো চাপে জানি না।
চারি দিকে উষ্ণ হিংসার স্রোত
দূর্গম বেগে ঢেকে ফেলে দেশ।

আজ ফুল গুলো বড্ড বেয়াদব
ফুলের সৌরভে গৌরব নেই, মর্যাদা নেই।
কেবলই দৌড় দৌড় ঝটিকা এক
সবুজ ভূমি খাচ্ছে গিলে তিলে তিলে।

শান্তি আজ শব্দ কেবলই ,অন্য কিছু নয়
বিশ্বাস ভাঙ্গা ঠুনকো গ্লাস এক
সম্প্রীতির বন্ধন আজ ধুলায় লুটায়
দেশ গ্রাম সর্বত্র ক্রুরতার  সর্গ রাজ্য।

আজ খুঁজি সেই চেতনা  সদা
মানবতার বর্ম পড়ে যুদ্ধ করে
বাঁচায় দেশ সমাজ গড়ে নূতন করে
হিংসা বিহীন রাষ্ট্র নিয়ে মানুষ বাঁচে যুগে যুগে।






   খোরাক 
      সৌম্য ঘোষ

ধর্ষিতাকে  কলমের  ডগায় দাঁড় করাইনি কখনও
মোমবাতি জ্বালিয়ে নীরব মিছিল--
অপরাধীকে প্রেরণা দেয় মাত্র !
পাতার পর পাতা প্রতিবাদের ভাষা !
শেষ পর্যন্ত লাভটা কি হলো !
জনচেতনা ?
ধর্ষণ কি তাতে একটুও কমলো ?
প্রভাতী সংবাদে হামলে পড়া--
" খোরাকের  খোঁজ....."
অপরাধের খোঁজে , নিত্যনতুন ধর্ষিতার খোঁজে,
নিদেন একটা বধূ নির্যাতন ;
না হলে, প্রাতঃরাশ জমি কই  ।
লেখক  পায় "বিষয়" , পাঠক পায় "খোরাক",
চায়ের আসরটা তো ঠিকই সরগরম হয়না--
একটা বধূনির্যাতন ছাড়া -
প্রতিবাদীর  বিনোদন কি সম্ভব ?

কত লেখালেখি, কত লেখকের জন্ম হয় ।।






রাশ পূর্ণিমা আজ
অঞ্জলি দে নন্দী,মম

রাশ পূর্ণিমা - হাস, ভালোবাস!
শ্রী রাই আর শ্রী কানাই।
বৃন্দাবন আজ মেলায় মন।
শশী ঐ পূর্ণ, ডেকে বলে, পূর্ণ হোক মিলনের নিশি।
আলো দূর করে তামসি কালো।
জ্বাল অন্তরে প্রেমের আলো!
ঢালো আরও ভালো!
অনন্ত প্রেম অফুরন্ত।
এসো হে অমর প্রেম, শুধু ভালোবেসো!
চঞ্চল যমুনা জল।
ছল ছল ছল - আকর্ষণ প্রবল।
টানে বয়ে চলে প্রেমের মিলন স্থল মোহনার পানে।
নিয়ম এ প্রকৃতির, সৃষ্টির মূলে, আদি প্রিয়ম।
আজ রাশে প্রেমিক ও প্রেমিকা করে প্রেমের সাজ।




অবাক জীব বৈচিত্র্য
    আব্দুল রাহাজ

চলছে ওরা তরতরিয়ে
নদীর স্রোতে অনন্য রূপে ফুটে উঠছে বিশ্বে মায়ের কোলে
সূর্যের দীপ্ত আলোয় যেন কোথাও নিজেদেরকে মেলে ধরছে
এক অনন্য রূপে।
প্রান্তিক মানুষগুলো তোমার উপর নির্ভর করে চলেছে আজীবন ধরে।

কোন দেশের আবার তোমার উপর নির্ভর করে অর্থনীতি

উন্নয়নকে সংগঠন মজবুত করে।
তুমি তো সেই অবাক করা জীব বৈচিত্র্য হে।





তবুও বাবু
       পার্থ প্রতিম হালদার

আমি চাকুরিজীবী বাবু নই ।
এমনকি সমাজের বুকে হঠাৎ
ফুলে ফেঁপে ওঠা বাবুও নই ,
আমি আমার মায়ের স্নেহের বাবু ।
গরীবের চেয়ে আরো গরীব বাবু ।
আমি এত নগণ্য যে কেউ আমাকে
তোয়াক্কাও করে না। তবুও আমি
বাবু হওয়ার অবান্তর স্বপ্ন
ছাড়তেও পারি না।

আমার না আছে টাকা, না আছে
সম্মান । না আছে বাবু সম্প্রদায়ের
মতো খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থান।
তবুও আমি বাবু। খড়ের চালের
কুঁড়েঘর থেকে বেরিয়ে আসা,
ইনহেলারের অক্সিজেন মুখে নিয়ে
কোনরকমে জীবন টা কে টিকিয়ে
রাখা , রোগগ্রস্ত মায়ের বাবু।
যে বছরের পর বছর ঘরের দুয়ারে
অপেক্ষা করে চলে , কখন তার
স্নেহের বাবু যাবে 'মা', 'মা' বলে।

তবুও , এমন পরিবেশ থেকে বেরিয়ে,
ঈশ্বর নামক বাবুর লিখন কে
ভাঙার চেষ্টা করি । সমাজের উলঙ্গ
চেহারা দেখে , রাজনীতি তে দুর্নীতি দেখে
কখনও দু চার কলম লিখেও ফেলি ।
কিন্তু লাভ কিছু হয়নি। সমাজের বুকে
বাবুর সম্মান মেলেনি।
আর্থিক অবস্থারও কোনো উন্নতি
ঘটে নি। শুধু জ্ঞানের কলসিতে জল ভরেছে ,
কিন্তু সেই জল সমাজের কাজে
লাগেনি। চাকরি জোটে নি।
তবুও এখনও বাবু হওয়ার
অবান্তর স্বপ্ন , আমি ছাড়তে পারিনি।






সময় কোথায়
     নরেন্দ্র নাথ নস্কর

সেই ভোরে মৌচাক ছেড়ে বেরিয়ে  এসেছি।
সারাদিন ফুলে ফুলে ঘুরে মধু সংগ্রহ করতে হয়। 
এ ফুলে ও ফুলে পরাগ মাখাতে হয়।
কত গাছ ঘুরতে হয় বলত?
কত কাজ বাকি।

তবে একটা অভিজ্ঞতা হয়েছে সামান্য এই জীবনে।

কত রকম ফুলের ফলের গাছ দেখেছি।
কত বিচিত্র তাদের নাম।

যে ফুল গুলোর নাম  জানি বলি।
টগর, জুঁই, গাঁদা, গোলাপ, রঙ্গন, দোপাটি, চাঁপা, কত রঙের জবা,
চন্দ্রমল্লিকা, ক্রেশনথেমাম ইত্যাদি।
আরো কত হরেক রকম ফুল যাদের নাম উদ্ভিদ  বিজ্ঞানী চাড়া অনেকেই জানে না।

সেই সমস্ত চেনা অচেনা ফুলের থেকে  থেকে মধু নিই , কিছু নীরব কথা হয় অনেকের সঙ্গে
তারা যে আমাদের জন্য অপেক্ষা করে।
তাদের বংশ বিস্তারে সাহায্য করি।

কত রকমের যে উদ্ভিদ দেখেছি কি  বলব?
কিছু নাম জানি।
কিছু জানি না।
ফুলে ফুলে পরাগ মাখালে তবেই তাদের ফল হয় যে।
তাদের ফুলে বসতেই তারা গল্প জুড়ে দেয়।
নি:শব্দে আমি মধু নিই।

কিছু উদ্ভিদের নাম জানি,
যেমন ঝিঙে, লাউ , কুমড়ো, শশা, মুলো,সরষে , আরো কত নাম আমার অজ্ঞাত ।
তাদের সবুজ শাখায় নানা রঙের ফুলে যখন বসি কি যে ভালো লাগে।
তবে গল্প করার সময় পাই কম।

দেরি হলে আমাদের রানী চিন্তা করবে।

আর ফল যে কত রকমের ও তাদের ফুলের যে কি বাহার তা প্রকাশ করা যায় না ঠিক মত।

কিছু নাম জানি যেমন আম, লিচু,জাম, খেজুর, পেয়ারা, 
লেবু, আপেল ইত্যাদি।

তবে বেশিরভাগ ফুল ও ফলের নাম পরিচয়   অজ্ঞাত  থেকে যায়।

দুরের দেশে বনে বনে ঘুরি যখন মধুর সন্ধানে, তখন কত যে অচেনা ফুল ফলের গাছে গাছে বসি কি বলব?
তাদের ফুলে ফুলে বসে  মধু নিতে হবে বলে, সেই বনের কোন এক উচ্চ  নিরাপদ গাছ দেখে মৌচাক বাঁধি আমরা।
রানীমা বাসায় থাকে।
আমরা সারাদিন মধু সংগ্রহ করে সন্ধ্যার অনেক আগে বাসায় ফিরে আসি।

সারা রাত বিশ্রাম করে আবার একই নিয়মে সেই ভোরবেলায় বেরিয়ে পড়ি মধু আনতে।

তোমাদের সাথে যে একটু গল্প করব, তার সময় কোথায়?







উপলক্ষ্য ঈদ 
     বদরুদ্দোজা শেখু


উপলক্ষ্য ঈদ ।
উপলক্ষ্য ঈদ  ছিল , বরং বলা যায়
ঈদোত্তর  প্রীতি-সম্মিলনী ।
আমরা ছিলাম মোট পাঁচজন সেই সান্ধ্য
চা-চক্রের উদ্যোক্তা ,অন্যরা সবাই আমন্ত্রিত
নবীশ বন্ধু বান্ধবীরা  বিশেষতঃ কেউ কেউ
খুশীর সরল প্রাপ্যটুকুর উৎসাহী দাবিদার , অন্যথায়
ঈদের আনন্দ ক্যামন যেন একপেশে , সকল হৃদয়ে সঞ্চালিত নয় ।
বিষয়টা উপলদ্ধি ক'রে আমরা ক'জন মিলে
প্রায় পঞ্চাশ জনের জন্য যথাসাধ্য
মুখ-মিষ্টির  ছোটোখাটো সৌজন্যমূলক সভা আয়োজন
  ক'রে ফেলি ডাইনিঙে যাতে
প্রায় সব সতীর্থই অংশ নিয়েছিল একযোগে
, প্রথমতঃ এই দৃশ্যে তারা ধন্যবাদার্হ সবাই ।

প্রত্যেকের টেবিলে টেবিলে নক্শী কাগজের প্লেটগুলো
চানাচুর বরফি কেকের সমারোহে  পূর্ণ ছিল সুচারু সুন্দর ,
এই ছোট্ট অবসরে
অনুষ্ঠান উদ্বোধন, স্বাগত ভাষণ ,তারপর
একে অপরের প্রস্তাব মতন বিভিন্ন রাজ্যের
গান হলো উর্দু হিন্দি সিন্ধি বাংলা কাশ্মিরী ওড়িয়ায় ,
দফায় দফায় হাততালি পড়লো যথেচ্ছ , টেবিল চাপড়ে'
শিস দিয়ে আনন্দ ধ্বনিত হলো , হাস্য-কৌতুকের
সরস মহড়া হলো ইতস্ততঃ , অবশেষে মনোজ্ঞ ধন্যবাদ
জ্ঞাপন করলো কাশ্মিরী বন্ধুবর শওকত ,
শেষ হলো  সভা ।

দ্রুত অপসৃয়মান এই দৃশ্যে দেখলাম ----
গুটিকয় ছাড়া কমবেশী প্রায় সমস্ত প্লেটেই
অনিচ্ছায় হেলাফেলা-ভ'রে খাবার ছড়ানো আছে
ইতস্ততঃযেন কারো কোনোরূপ খাবার তাগিদ নাই , আমাদের
যথাসাধ্য  আয়োজনের এমন অবক্তব্য অপচয় দেখে
আমি হতবাক , অপ্রসন্ন । বিষণ্ণ বিমর্ষ কিছু
মুখ ভেসে এলো মনে , যাঁরা প্রায়শঃই অভুক্ত থেকে যান ।
সামাজিক সৌজন্যের এই কি স্বরূপ? নাকি অভিজাত
মহলের মহ্ফিলি রীতি নীতি এই?
সেই সংক্ষিপ্ত বিনোদন আপাততঃ উপভোগ্য হ'লেও , সেই
প্রীতি--সম্মিলনীর লক্ষ্য আর
উপলক্ষ্য আজো মাথা হেঁট ক'রে আছে
হতবুদ্ধি বামনের মতো ।





অপৌরাণিক
     অনিন্দ্য পাল

পাহাড় নেই, নদী নেই, নেই  মাটির গন্ধ
তবু এ রাজত্বে রাম স্বয়ং সিংহাসনে
কৌশল্যাপতি বনবাসে যান আজীবন
অসংখ্য সীতা মিছিলে নামে
পিছু ধাওয়া করে রামের মুখোশে
                                          দশানন রাবণ

সমস্ত গোপন উঠে এসে থিতু হয়েছে
রামের পাদুকায়
মাটির ফাটল বেয়ে আকাল ছুঁয়েছে
নাটক, অভিনয়
তবু পৃথিবীর জঠরে স্থান অকুলান
এবং রাবণের নেই কোন লুকানো মৃত্যুবাণ 

ইন্দ্রজিৎ ও অবধ্য চিরকাল
মেঘের আড়ালে সব জবাব সওয়াল

কালরাত্রির জমানো দুই বরে
কৈকেয়ীরা চায় নিত্য নিয়ম করে
বিভীষণ জন্মাক প্রতি সংসারে

এ রাজপাটে বিষ-রক্তে রজস্বলা
আমাদের ভাবিকাল ...



0 comments: